প্রশ্ন : আমাদের সমাজে সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতক শিশুটি মেয়ে হলে তখন তার ডান কানে আযান এবং বাম কানে ইকামত দেয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের উদাসীনতা পরিলক্ষিত হয়। এর কারণ কী?
![]() |
নবজাতক শিশু ছেলে হোক বা মেয়ে হোক আযান ইকামত দিতে হবে |
জবাব : প্রশ্নে বর্ণিত কারণ তাদের অজ্ঞতা আর কম ইলম বৈ আর কিছুনা । অথচ শরীয়তের বিধান হচ্ছে, নবজাতক শিশু ছেলে হোক আর মেয়ে হোক, উভয়ের জন্যই আযান দিতে হবে। এটি উভয়ের ক্ষেত্রে সমান। হাদীসে পরিষ্কার এসেছে সদ্য প্রসূত বাচ্চার ডান কানে আযান ও বাম কানে ইকামত দেয়া সুন্নত।
আরেকটি মাস’আলা এই যে, তৎক্ষণাৎ যদি কোনো পুরুষ হাজির না থাকে তখন মা যদি নেফাসগ্রস্থ (অপবিত্র) না হয়, তাহলে তিনিও আপনা শিশুর কানে আযান এবং ইকামত দিতে পারবেন। [ফাতাওয়া মাহমূদিয়া-৯/১৬০]
এবার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কয়েকটি হাদীস শরীফ নিচে দেখুন
عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” مَنْ وُلِدَ لَهُ مَوْلُودٌ فَأَذَّنَ فِي أُذُنِهِ الْيُمْنَى، وَأَقَامَ فِي أُذُنِهِ الْيُسْرَى رُفِعَتْ عَنْهُ أُمُّ الصَّبِيَّاتِ
অর্থ:- হযরত হাসান বিন আলী রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যার সন্তান হয়, তারপর লোকটি সন্তানের ডান কানে আযান ও বাম কানে ইকামত দেয়, তাহলে তাকে উম্মুস সিবয়ান ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারবে না। [শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৮২৫৪, আল-আযকার লিন-নাবাবী, হাদীস নং-৮৩৮]
عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «أَذَّنَ فِي أُذُنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ حِينَ وَلَدَتْهُ فَاطِمَةُ بِالصَّلَاةِ
অর্থ:-হযরত উবায়দুল্লাহ বিন আবী রাফে তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ফাতিম রাঃ যখন হাসান বিন আলী রাঃ কে প্রসব করলেন, তখন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হযরত হাসান বিন আলীর কানে সালাতের আযানের মত আযান দিতে দেখেছি। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৫১০৫, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১৫১৪]
عن حسين قال : قال رسول الله – صلى الله عليه و سلم – : من ولد له فأذن في أذنه اليمنى وأقام في أذنه اليسرى
অর্থ:- হযরত হুসাইন রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন যে,যার সন্তান হয়,সে যেন তার ডান কানে আযান এবং বাম কানে ইকামত দেয়। {শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৮৬১৯, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৬৭৮০, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক,হাদীস নং-৭৯৮৫}
আশাকরি আপনার প্রশ্নের জবাব পেয়েছেন। ওয়াসসালাম।
লেখক, মুহাম্মদ নূরুন্নবী। copy
